রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর জন্য রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর জন্য বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে, যা ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করবে।
প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। এমআরটি লাইন-১-এর আওতায় পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন প্রায় ৮২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে দুই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। প্রাথমিক অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পগুলোর দরপ্রস্তাব অনেক বেশি হওয়ায় মোট ব্যয় প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক দরপত্র ও স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সীমিত হওয়ায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়ায় কাজের গতি বেড়েছে। এখন বিভিন্ন প্যাকেজের দরপত্র মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে এই বিপুল বরাদ্দ ঢাকার অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক