মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক প্রধান জেনারেল ইয়াল জামির এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দ্রুত এবং শক্তিশালী হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে, যা ইরান ও লেবাননের মতো প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে পারে।
জামির দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ইরানের সামরিক কাঠামো ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আঘাত করে সেটিকে কার্যত বিপর্যস্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী এবং অন্যান্য কৌশলগত সক্ষমতা যাতে কোনোভাবেই অগ্রগতি না করতে পারে, সে বিষয়েও ইসরায়েল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
লেবানন প্রসঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক প্রধান জানান, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল ও ‘পরিষ্কার’ করার কাজ চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় হুমকি দূর করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে এই সামরিক ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও লেবাননে টানা হামলার পরিকল্পনা অঞ্চলটিকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগর ঘিরে উত্তেজনা চলমান রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই অবস্থান কেবল সামরিক নয়, বরং কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরির অংশ। তবে এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন নজর রাখা হচ্ছে—এই সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা দূর এগোয় এবং কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।
কসমিক ডেস্ক