পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের সুবিধার্থে ভোলায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি বাস সার্ভিস এবং চিকিৎসা সহায়তা চালু করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিশেষ সেবার উদ্বোধন করেন ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ফ্রি বাস সার্ভিসটি ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করবে।
এতে করে দূরদূরান্ত থেকে লঞ্চযোগে ভোলায় পৌঁছানো যাত্রীরা সহজে বাসস্ট্যান্ডে যেতে পারবেন এবং যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে ভোলা জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি থাকে।
এই চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফ্রি বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ইলিশা লঞ্চঘাটে পুলিশের উদ্যোগে একটি ‘ফ্রি মেডিক্যাল টিম’ এবং অ্যাম্বুল্যান্স সেবা চালু করা হয়েছে।
কোনো যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই মেডিক্যাল টিম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অংশীজন এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি যাতায়াত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চালকের পাশে যাত্রী বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া একটি সিএনজিতে তিনজনের বেশি যাত্রী বহন না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে পরিবহন মালিকদেরও সতর্ক করা হয়।
যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘ইনলেয়ার’ ও ‘আউটলেয়ার’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
এ লক্ষ্যে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে এবং ভোলার সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।
কসমিক ডেস্ক