ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের শক্তি জেলায় অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। ঘটনাটি মঙ্গলবার দুপুরে সিংঘিতরাই গ্রামের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ঘটে, যা পরিচালনা করে Vedanta Limited।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি বয়লার ইউনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থাপনার একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে বহু শ্রমিক ঘটনাস্থলেই আটকা পড়ে যান। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় সেখানে সাব-কন্ট্রাক্টর এনজিএসএল-এর কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কী কারণে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে অনুদান দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও শিল্প কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারী শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। নতুবা এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই দাবি করেছেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারতের বিভিন্ন স্থানে অতীতেও শিল্প কারখানায় এ ধরনের দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ফলে এ ঘটনায় নতুন করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং শিল্প নীতিমালা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক