মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে রিয়াদ।
সৌদি কর্মকর্তারা মনে করছেন, অবরোধ জারি থাকলে ইরান কৌশলগতভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এটি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এছাড়া চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে ইরানের বিরোধ ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা উপসাগরীয় জ্বালানি বাজার এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে—ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবরোধ কৌশল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তাই তারা দ্রুত উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানি চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে। মরুভূমি পেরিয়ে লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে হরমুজে অবরোধ অব্যাহত থাকলে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিও ঝুঁকির মুখে পড়লে এই সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মনে করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক