আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশকের দাম কমতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাজেট প্রস্তাবে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকের স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং রেগুলেটরি ডিউটি কমানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। এর ফলে কৃষি উপকরণের বাজারমূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার কৃষিকে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে আগামী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। সার ও কীটনাশক কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হওয়ায় এসবের দাম কমলে সরাসরি কৃষকের লাভ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজেটে যদি সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান কর কাঠামো শিথিল করা হয়, তাহলে আমদানি ব্যয় কমবে। বাংলাদেশে এই দুই পণ্যের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে শুল্ক কমলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ খরচও কমে যাবে এবং খুচরা পর্যায়ে দাম হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার ও কীটনাশকের দাম কমলে কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে। বিশেষ করে ধান, ভুট্টা, আলু এবং সবজি চাষে উৎপাদন ব্যয় কমে গেলে কৃষকরা বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়তে পারে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি খাতে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, যাতে কৃষকের ওপর উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কম থাকে। নতুন বাজেটেও সেই ধারা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সার ও কীটনাশকের ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে তা ভর্তুকির পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের কর ছাড়ের প্রভাব সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপরও পড়তে পারে। তাই সরকারকে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে একদিকে কৃষক সুবিধা পায় এবং অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাও স্থিতিশীল থাকে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর সম্ভাবনা কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত বাজেট ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে কৃষক কতটা বাস্তব স্বস্তি পাবেন।
কসমিক ডেস্ক