উত্তর কোরিয়া আবারও তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সম্প্রতি নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপিত কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার তদারকি করেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, রবিবার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৭ হাজার ৯০০ সেকেন্ড, অর্থাৎ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উড্ডয়ন করে। অন্যদিকে যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২ হাজার সেকেন্ড বা ৩৩ মিনিটের মতো সময় আকাশে থাকে।
কেসিএনএ আরও জানায়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত উড্ডয়ন পথ অনুসরণ করে কোরিয়ার পশ্চিম সাগরের আকাশে উড়ে এবং নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই নির্ভুলতা উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরীক্ষাগুলো পরিচালিত হয় দেশটির একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ থেকে, যার নাম ‘চোয়ে হিয়ন’। এই জাহাজটি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর অন্যতম বড় ও শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার হিসেবে বিবেচিত। প্রায় পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেশটির সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এই সক্ষমতা কোনো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শত্রুপক্ষের ওপর দূর থেকে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি করে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় যুদ্ধজাহাজ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে কিম জং উনকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দূর থেকে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি ডেস্ট্রয়ারের অস্ত্র ব্যবস্থা সম্পর্কেও কিমকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে, যদিও সেই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার সামরিক কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে দেশটি একদিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তির বার্তাও দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করে যে উত্তর কোরিয়া তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত অস্ত্র পরীক্ষা এবং সামরিক মহড়ার মাধ্যমে দেশটি তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক