রুশ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রুশ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
রুশ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে ছবির ক্যাপশন:

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজতে গিয়ে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিকভাবে দুই মাসে অন্তত ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রায় দেড় মাসের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির ওপর।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল—দুই ধরনের জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের একমাত্র শোধনাগার Eastern Refinery Limited ভারি ধরনের রুশ ক্রুড তেল পরিশোধনে সক্ষম নয়। ফলে আপাতত পরিশোধিত ডিজেল আমদানির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ।

এই প্রেক্ষাপটে দুই মাসে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির আলোচনা চলছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি আনতে পারে। তবে বিষয়টি সহজ নয়। কারণ রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি আমদানিতে ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা ‘স্যাংশন ওয়েভার’ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন রফতানি দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। United States-এর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে কতদিনের জন্য এবং কত পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করা যাবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় এই উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি সম্ভব হবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা সাময়িক হতে পারে এবং সুযোগ হাতছাড়া হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে এই ডিজেল আনা গেলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

এদিকে কূটনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি কূটনীতি এখন বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে হবে যে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়, যার মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রস্তাব এলেও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই আলোচনা আবার সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পাওয়া গেলে এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নারী প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়, প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি

নারী প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়, প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি