দেশে জ্বালানি আমদানিতে রেকর্ড সৃষ্টি হলেও বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাভাবিক ক্রয়-বিক্রয় বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৪ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। একই সময়ে মোট জ্বালানি আমদানি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টনে। এসব আমদানির জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩৯.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এছাড়া পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এবং এলএনজি আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও আমদানিতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি। অনেক জায়গায় পাম্প খোলার আগেই যানবাহনের সারি তৈরি হচ্ছে, আর খোলার কিছু সময়ের মধ্যেই জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। পাম্প কর্মীরা জানান, দিন যত যাচ্ছে, ততই চাহিদা বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার লাইন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মূলত আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেই সাধারণ মানুষ বেশি পরিমাণে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন, যার ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়।
এই প্রভাব শুধু ভোক্তা পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং উৎপাদন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশের শিল্প ও রফতানি খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তাহলে রফতানি আয় পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই এক ধরনের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে গিয়ে বাজারে সাময়িক সংকট দেখা দেয়। তবে জ্বালানি আমদানিতে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা রয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য রয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি নেট ওপেন পজিশন দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ফলে জ্বালানি আমদানিতে ডলারের কোনো ঘাটতি হবে না বলেই আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কজনিত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয় মজুত না করে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কসমিক ডেস্ক