ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় নতুন অগ্রগতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় নতুন অগ্রগতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় নতুন অগ্রগতি ছবির ক্যাপশন:

দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে United States। কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা এই অর্থ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন—যা চলমান Iran-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের Islamabad-এ চলমান দুই দেশের সংলাপের আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেহরান এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং আশা করছে, এর মাধ্যমে বৃহত্তর সমঝোতার পথ সুগম হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের একটি সূত্র জানায়, জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি Strait of Hormuz-এ নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে এখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা Qatar-এর ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল। যদিও এই বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং কাতার সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে থাকা ইরানের তেল বিক্রির আয় আটকে যায়। পরবর্তীতে সেই অর্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে ইরান থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত অর্থ সীমিত ব্যবহারের শর্তে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ওই অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করে। তখন ওয়াশিংটন জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক কাজে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অর্থ ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থ ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহী এবং দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

তবে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্মতি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এনেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অগ্রগতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে

ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে