দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পারিবারিক বাজেট চরমভাবে চাপের মুখে পড়ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং অন্যান্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশ হলেও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি ১৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তার মতে, জ্বালানি, পরিবহন এবং সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধিই মূলত সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে মানুষের মজুরি বৃদ্ধি সেই হারের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সিপিডি আরও জানায়, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সংস্থাটি মনে করে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহজনিত সমস্যা, চাহিদাজনিত নয়।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা, কৌশলগত খাদ্য মজুত বৃদ্ধি এবং বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও এর ওঠানামার কারণ বিশ্লেষণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগে দুর্বলতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সিপিডির মতে, শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকে থাকতে হলে সময়মতো মজুরি, কারখানা নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
কসমিক ডেস্ক