রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সোনালি মুরগির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক মাস আগেও এই মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন তা অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, আফতাবনগর ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে দামের কিছু পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি পর্যায়েই দাম বাড়ছে, ফলে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প থাকছে না।
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। প্রতিদিনের তুলনায় পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
ক্রেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, রমজান মাসেও তুলনামূলক কম দামে মুরগি পাওয়া গেলেও ঈদের পর পরিস্থিতি উল্টো হয়ে গেছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শুধু মুরগিই নয়, মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ২২০ টাকার নিচে কোনো মাছ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।
এছাড়া, ১ কেজি ওজনের রুই মাছ এখন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ২৮০ টাকার মধ্যে ছিল। বড় আকারের রুই মাছের দামও ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে মাছের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
কসমিক ডেস্ক