জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। পরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। এতে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমবে এবং সড়কে যানজটও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তাদের শুল্কমুক্তভাবে ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর জ্বালানি সাশ্রয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধু ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্তই নয়, বরং ব্যয় সংকোচনের জন্য আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
ব্যাংকিং সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে।
এছাড়া দেশের সব ধরনের শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকানের মতো জরুরি সেবা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
সামাজিক অনুষ্ঠানেও ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো যায়।
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আগামী তিন মাসের জন্য আরও কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো যানবাহন, জলযান বা আকাশযান কেনা যাবে না। একই সঙ্গে কম্পিউটারসহ নতুন সরঞ্জাম কেনাও বন্ধ রাখা হবে।
অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে বিদেশে সব ধরনের প্রশিক্ষণ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা-সেমিনারের ব্যয়ও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার একযোগে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্তটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের পরিবহন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক