কান্নায় ভাসছে গ্রাম, পাশাপাশি শায়িত পরিবারের ৯ সদস্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কান্নায় ভাসছে গ্রাম, পাশাপাশি শায়িত পরিবারের ৯ সদস্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 13, 2026 ইং
কান্নায় ভাসছে গ্রাম, পাশাপাশি শায়িত পরিবারের ৯ সদস্য ছবির ক্যাপশন:

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের নয় সদস্যকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের বাড়ি মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে এখন চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসঙ্গে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

শেলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ শিকদার বলেন, নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারটি ছিল বড় একটি পরিবার। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।

কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় তার পরিবারের বহু সদস্যকে হারাতে হয়েছে।

তিনি জানান, ওই দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি নিহত হয়েছেন।

বর্তমানে পরিবারে জীবিত আছেন তার তিন ছেলে এবং তাদের মা।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক।

তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম।

এ ছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার জিগির মোল্লা এলাকায়।

অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকেও চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ারা বেগম।

তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের একাধিক সদস্য হারানো আশরাফুল আলম জনি শোকাহত কণ্ঠে বলেন, তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।”

এই কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে সাব্বিরের বিয়ে হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাস খুলনা-মোংলা মহাসড়ক দিয়ে ফিরছিল।

বিকেলের দিকে রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ শোকে পরিণত হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা কর

মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা কর