চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের দীর্ঘদিনের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নতুন শাটল ট্রেন সংযোজনের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে বিদ্যমান ট্রেনে বগি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চবি ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
সাক্ষাৎকালে আব্দুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের শাটল ট্রেন ব্যবহারের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শাটল ট্রেন শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে বর্তমানে আসন সংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত এই শাটল ট্রেন ব্যবহার করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বগি না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে প্রতিনিধি দল রেলমন্ত্রীর কাছে এক জোড়া নতুন শাটল ট্রেন সংযোজন এবং বিদ্যমান ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করার দাবি জানায়।
এছাড়া শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ভিড়ের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বৈঠকে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিষয়টি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন শাটল ট্রেন সংযোজন এবং বগি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেগের জায়গা হলেও বর্তমানে এটি তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা রেলমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি এবং তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আজিজুল হক মামুন, প্রচার সম্পাদক ও শাহজালাল হল সংসদের এজিএস ইমতিয়াজ জাবেদ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আতাহার হোসেন ইশতিয়াক।
বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার্থী পরিবহন ব্যবস্থা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে এটি চাপের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা অনুযায়ী ট্রেনের সক্ষমতা না বাড়ানোয় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়িত হলে চবি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন সবার নজর রেল মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।