মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেন। এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আলটিমেটাম দেন। ওই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জবাবে ইরানও Israel এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তেলের দাম ওঠানামা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা যায়।
সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। তিনি জানান, আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে পাঁচ দিনের জন্য সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, কিছু আঞ্চলিক দেশ উত্তেজনা কমানোর জন্য পরোক্ষভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তেহরান অভিযোগ করেছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক সক্রিয়ভাবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি Steve Witkoff এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সূত্রটির দাবি, এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান খোঁজা।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার Badr Abdelatty যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং এর প্রভাব সীমিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও সরাসরি আলোচনার বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই ধরনের পরোক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যখন সামরিক উত্তেজনা চরমে থাকে, তখন এমন উদ্যোগই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর পথ তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখনো পুরোপুরি সমাধান না হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই আলোচনা কোন দিকে গড়ায়, সেটিই নির্ধারণ করবে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।
কসমিক ডেস্ক