নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে হেনস্তা, অর্থ আদায় এবং ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে পূর্বধলা উপজেলার সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে দিবাগত রাত ১২টার পর সংশ্লিষ্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচিত মো. শরীফ হোসেন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার দাবি, তিনি ইজি বাইকে করে পূর্বধলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ত্রিমোহনী সেতু অতিক্রম করে শালদিঘা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে আরও একজন সেখানে যোগ দেন। শরীফের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন এবং অর্থ দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছে থাকা নগদ অর্থের পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, নির্যাতনের সময় তার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তাকে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শরীফ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় তিনি অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পারেননি। কারও বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত কোনো সন্দেহ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানবিক ও আইনগত প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বক্তব্য শোনা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পূর্বধলা থানার অধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক