দেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত এই মারণব্যাধীর কাছেই হার মানলেন তিনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বরেণ্য শিল্পী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সংগীতাঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডালিয়া নওশীন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তার জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। পরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী এবং ভক্তদের উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হবে এই গুণী শিল্পীকে।
ডালিয়া নওশীন ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন কণ্ঠযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কণ্ঠে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান মানুষের মনোবল জাগিয়ে তুলেছিল। তিনি মূলত নজরুল সংগীতের একজন খ্যাতিমান শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার কণ্ঠে অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে তাকে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এই সম্মাননা তার দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে ডালিয়া নওশীন ছিলেন দুই সন্তানের জননী। তার এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্য ছেলে স্পেনে বসবাস করছেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।
তার মৃত্যুতে দেশের সংগীতাঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার কণ্ঠ, তার সুর এবং তার অবদান দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।