ঈদ উৎসব ঘিরে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে জমে উঠেছে সিনেমার আসর, আর সেই আবহে দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নির্মাতা রায়হান রাফীর নতুন ছবি ‘প্রেশার কুকার’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটি নিয়ে আলোচনা, কৌতূহল এবং দর্শক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সিনেপ্লেক্স ও সিনেমা হলে ছবিটি হাউসফুল যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যা ঈদের চলচ্চিত্র বাজারে এটিকে অন্যতম আলোচিত মুক্তি হিসেবে সামনে এনেছে।
সিনেমাটি ঘিরে দর্শক প্রতিক্রিয়াও বেশ ইতিবাচক বলে জানা যাচ্ছে। যারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখছেন, তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। এই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসাই ‘প্রেশার কুকার’-এর জন্য বড় প্রচারণা হিসেবে কাজ করছে। নির্মাতা রায়হান রাফীও গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, বাংলা সিনেমার জয় হোক, আর দর্শকদের মুখে মুখেই ছবিটি ছড়িয়ে পড়ছে—এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তার ভাষ্যে, হলে বসে দর্শক এমন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন, যা আগে খুব বেশি দেখা যায়নি।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘প্রেশার কুকার’-এর বড় শক্তি হিসেবে সামনে আসছে এর গল্প ও চরিত্র নির্মাণ। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে চারটি শক্তিশালী নারী চরিত্র। এই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। তাদের ভিন্ন ভিন্ন জীবন, সংকট, সম্পর্ক ও মানসিক টানাপোড়েনকে একটি সুতোয় গেঁথে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে বলে দর্শক প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসছে। নারীপ্রধান গল্পকে বাণিজ্যিক আবহে উপস্থাপনের এই প্রয়াস ছবিটিকে আলাদা করে তুলেছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
ছবিটিতে কেবল নারী চরিত্রই নয়, শক্তিশালী সহ-অভিনয়ও রয়েছে। ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর, আজিজুল হাকিমসহ একাধিক পরিচিত ও অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীর উপস্থিতি ছবির নাটকীয়তা ও আবেগের ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। ফলে এটি শুধু তারকানির্ভর চলচ্চিত্র নয়; বরং বহুমাত্রিক অভিনয়সমৃদ্ধ একটি দলগত নির্মাণ হিসেবেও দর্শকের নজর কাড়ছে।
দীর্ঘ ব্যাপ্তির সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও দর্শক মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে—এমন দাবি নির্মাতা-সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। একটি দীর্ঘ সিনেমার ক্ষেত্রে গতি, দৃশ্য বিন্যাস ও আবহ সঠিকভাবে ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রেশার কুকার’-এর ক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফি ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককেও ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গান, দৃশ্যায়ন এবং টানটান আবহ ছবিটিকে বড় পর্দার উপযোগী অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। অংকনের কণ্ঠে গাওয়া একটি গান ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে, যা ছবিটির প্রচারণায় বাড়তি ভূমিকা রাখছে।
ঈদের চলচ্চিত্র বাজারে সাধারণত প্রথম কয়েক দিনের প্রতিক্রিয়াই একটি ছবির ভবিষ্যৎ বক্স অফিস সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সেই জায়গা থেকে ‘প্রেশার কুকার’-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠছে ইতিবাচক ওয়ার্ড অব মাউথ। প্রযোজনা বা পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার বাইরে দর্শকের ব্যক্তিগত সুপারিশ যখন কাজ করতে শুরু করে, তখন একটি ছবি দ্রুত আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। ‘প্রেশার কুকার’-এর ক্ষেত্রেও সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নির্মাতা রায়হান রাফী নিজেও বিভিন্ন সিনেমা হলে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। এতে দর্শক-নির্মাতা সংযোগ আরও দৃঢ় হচ্ছে এবং ছবিটি ঘিরে আগ্রহও বাড়ছে। অনেকে বলছেন, ‘তুফান’ ও ‘তাণ্ডব’-এর পর রাফী এবার নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন। যদিও এমন মন্তব্য মূলত দর্শক প্রতিক্রিয়াভিত্তিক, তবু এটি বোঝায় যে নির্মাতার কাজ নিয়ে প্রত্যাশা এবং আগ্রহ দুই-ই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের সিনেমা দৌড়ে ‘প্রেশার কুকার’ এখন আলোচনার সামনের সারিতে। হাউসফুল শো, সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, নারীপ্রধান গল্প, অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি এবং নির্মাতার সক্রিয় প্রচারণা—সব মিলে ছবিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সামনে এই দর্শক আগ্রহ ধরে রাখতে পারলে ঈদ মৌসুমে ‘প্রেশার কুকার’ বক্স অফিসেও বড় সাফল্য পেতে পারে।
কসমিক ডেস্ক