আকাশে বসেই ইউটিউব–গেমিং, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে স্টারলিংক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আকাশে বসেই ইউটিউব–গেমিং, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে স্টারলিংক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 4, 2026 ইং
আকাশে বসেই ইউটিউব–গেমিং, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে স্টারলিংক ছবির ক্যাপশন:

বিমানে বসে নেটফ্লিক্স দেখা, ইউটিউব স্ট্রিমিং বা বড় ফাইল পাঠানো এখন আর দূর ভবিষ্যতের বিষয় নয়। স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক–এর মাধ্যমে আকাশপথে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসছে।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা তাদের নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করবে। ৪ মে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই সেবা সব নির্দিষ্ট বিমানে চালু করা হবে।

এই সেবা পাওয়া যাবে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ লং-হল, এ৩৫০-৯০০ আলট্রা লং-রেঞ্জ এবং এ৩৮০ মডেলের বিমানে। এসব বিমানে যাত্রীরা টেকঅফ থেকে ল্যান্ডিং পর্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

স্টারলিংক মূলত হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। এসব স্যাটেলাইট পৃথিবীর তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান করায় ডেটা ট্রান্সফারের গতি অনেক বেশি এবং ল্যাগ কম হয়। ফলে বিমানের মতো চলমান পরিবেশেও স্থিতিশীল ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব হয়।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্টারলিংকের গতি প্রচলিত ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেটের তুলনায় অনেক উন্নত। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ফ্লাইটে স্টারলিংকের মাধ্যমে প্রায় ৩২০ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলোড স্পিড পাওয়া গেছে, যেখানে পুরোনো স্যাটেলাইট সিস্টেমে গতি অনেক কম ছিল।

এই নতুন সেবার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সব ক্যাবিন ক্লাসের যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে থাকবে। অর্থাৎ ইকোনমি, বিজনেস বা ফার্স্ট ক্লাস—সব যাত্রীই একইভাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এই সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং বড় ফাইল আদান-প্রদান করতে পারবেন। বিমান ভ্রমণের সময় দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ো ফি তেইক বলেন, স্টারলিংক যুক্ত হওয়ায় বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। তার মতে, যাত্রীদের জন্য এটি শুধু ইন্টারনেট নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা হবে।

বিশ্বের অন্যান্য বড় এয়ারলাইন্সও এখন এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ভার্জিন আটলান্টিক। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় এয়ারলাইন্স এমিরেটসও তাদের প্রথম স্টারলিংক-সজ্জিত ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় বিপ্লব আনছে। আগে যেখানে ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট ধীরগতির ও ব্যয়বহুল ছিল, এখন সেখানে দ্রুত ও স্থিতিশীল সংযোগ সম্ভব হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির ফলে শুধু যাত্রীদের বিনোদনই নয়, বিমান কোম্পানিগুলোর অপারেশন, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংকের মাধ্যমে বিমান ভ্রমণ ধীরে ধীরে একটি “উড়ন্ত অফিস ও বিনোদন কেন্দ্র”-এ পরিণত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের এভিয়েশন অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল

জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল