সরাসরি ক্রয়ে ৩ লাখ টন ডিজেল আনছে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সরাসরি ক্রয়ে ৩ লাখ টন ডিজেল আনছে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 18, 2026 ইং
সরাসরি ক্রয়ে ৩ লাখ টন ডিজেল আনছে সরকার ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপিএম) এই ডিজেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে দুবাইভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন সরবরাহ করবে ১ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সরবরাহ করবে বাকি ২ লাখ টন ডিজেল।

গত ১২ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) এই জরুরি ক্রয়ের অনুমোদন দেয়। এপ্রিল মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে এই আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতির অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে নিয়মিত সরবরাহকারীরা সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অনেক শিপিং কোম্পানি তাদের কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত রেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এপ্রিল মাসে ডিজেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দিলে দেশের পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম চালাতে ডিজেলের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে আগাম মজুদ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই আমদানির মূল্য কাঠামো নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে কেনা ডিজেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারদর বা ‘প্ল্যাটস’ অনুযায়ী নির্ধারিত হলেও, এ অ্যান্ড এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্রতি ব্যারেল মাত্র ৭৫ ডলারে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৪৩ থেকে ১৭২ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে এত কম দামে সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা করছে, এই ডিজেল সম্ভবত রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত হতে পারে, যা তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধিত হয়ে সরবরাহ করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরবরাহে লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম চালানটি আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সার্বিকভাবে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারের এই আগাম পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘জাতীয় নারী শক্তি’র নেতৃত্বে মনিরা শারমিন, মিতু ও নুসরাত

‘জাতীয় নারী শক্তি’র নেতৃত্বে মনিরা শারমিন, মিতু ও নুসরাত