রোববার (২২ মার্চ) ভোরে কুমিল্লা জেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ঝিনাইদহ জেলার একই পরিবারের তিন শিশুসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন—মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) ও তাদের দুই কন্যা খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩)। এছাড়া একই উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের জোহাদ হোসেনও নিহত হন।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিন্টু হোসেন তার পরিবারসহ ঝিনাইদহ থেকে নোয়াখালীর আত্মীয়ের বাড়িতে যাত্রা করেছিলেন। বাসটির চালক ছিলেন পিন্টু হোসেন নিজেই, তবে ঢাকা পর্যন্ত আসার পর তিনি গাড়ির চালক বদল করে নিজে নেমে যান। পথের মধ্যে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও দুই শিশুসহ পাঁচ যাত্রী প্রাণ হারান।
স্থানীয়রা জানান, একসাথে মা ও দুই শিশুর মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানো এবং পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারও জানান, মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই দুর্ঘটনা দেশের সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার দিকেও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক