আবাসন খাতে প্রত্যাশিত নীতি সহায়তা নেই, ব্যয় বাড়ার শঙ্কা রিহ্যাবের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আবাসন খাতে প্রত্যাশিত নীতি সহায়তা নেই, ব্যয় বাড়ার শঙ্কা রিহ্যাবের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং
আবাসন খাতে প্রত্যাশিত নীতি সহায়তা নেই, ব্যয় বাড়ার শঙ্কা রিহ্যাবের ছবির ক্যাপশন:

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, বাজেট প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, আবাসন খাতকে গতিশীল করার জন্য যেসব উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন এবার দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের ফলে আবাসন নির্মাণের মোট খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফ্ল্যাটের দাম ও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। ফলে আবাসন বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

রিহ্যাব সভাপতি আরও জানান, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। তার মতে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে লেনদেন বাড়বে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এবারের বাজেটে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না থাকায় খাত সংশ্লিষ্টরা হতাশ।

তিনি বলেন, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প জড়িত। ফলে আবাসন খাতের গতি কমে গেলে শুধু ডেভেলপার বা ফ্ল্যাট ক্রেতাই নয়, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, ইলেকট্রিক পণ্য, আসবাবপত্র ও পরিবহনসহ বহু খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ড. আলী আফজাল মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, গৃহায়ণবান্ধব করনীতি প্রণয়ন এবং স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি জরুরি। পাশাপাশি একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় আবাসন খাতের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। কারণ আবাসন খাতকে গতিশীল করা মানেই অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করা।

তবে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ‘স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রিহ্যাব। এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সংগঠনটি পরবর্তী সময়ে তাদের পূর্ণাঙ্গ মতামত জানাবে বলেও জানান সভাপতি।

সব মিলিয়ে, বাজেটে প্রত্যাশিত নীতিসহায়তা না থাকায় আবাসন খাতে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফ্ল্যাটের দাম ও সামগ্রিক আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মানুষ প্রতিদিন গড়ে কত কদম হাঁটে? জানুন বয়স, পেশা ও দেশের ভিত

মানুষ প্রতিদিন গড়ে কত কদম হাঁটে? জানুন বয়স, পেশা ও দেশের ভিত