পদ্মা নদীতে আবারও নৌ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় যাত্রীদের মধ্যে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন লঞ্চে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘এমভি রেজোয়ান’ নামের লঞ্চটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে একটি তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি হঠাৎই ঘটে, ফলে লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় লঞ্চটি দুলতে শুরু করে এবং অনেক যাত্রী ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ হাত-পায়ে আঘাত পেয়েছেন, আবার কেউ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার সময় আতঙ্কে দুইজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত তারা সাঁতরে আবার লঞ্চে উঠতে সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চের মাস্টারের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের মতে, নদীতে চলাচলের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি এবং তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। ফলে এমন সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ঘটেনি।
দুর্ঘটনার পর লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছালে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়ে আনেন। পরে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. জিল্লুর রহমান প্রামাণিক জানান, মাঝ নদীতে সংঘর্ষের পর লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আহতদের নিরাপদে নামিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন। সেখানে এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নৌযান পরিচালনায় শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও সতর্কতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নৌযান চালকদের আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
পদ্মা নদীর মতো ব্যস্ত নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক