লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শুক্কুর মিঝি নামে এক বিএনপি নেতাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া।
তিনি জানান, শুক্কুর মিঝিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়নি।
অভিযুক্ত শুক্কুর মিঝি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি একই এলাকার বিশ্বাসের বাড়ির নুর ইসলামের ছেলে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়ি থেকে শুক্কুর মিঝিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার পর্যন্ত তিনি থানার হেফাজতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী (১৫) রায়পুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
রবিবার সকালে সে ঘর থেকে ময়লা ফেলতে বাইরে বের হয়েছিল।
এ সময় বাড়ির গেইটের সামনে অবস্থান করা শুক্কুর মিঝি পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে পাশের একটি অটোরিকশা রাখার কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হলে কিশোরী চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে তার খালা ও নানি ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তখন অভিযুক্ত শুক্কুর সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর কিশোরীর খালা থানায় শুক্কুর মিঝিসহ দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি হলেন শুক্কুর মিঝির মেয়ের জামাই এবং উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন রানা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয়ে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী বাদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন রানা বলেন, তার শ্বশুরকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী তার স্ত্রীর বান্ধবী। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি ফোনে কথা বলেছিলেন।
তার দাবি, সেই কথোপকথনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, শুক্কুর মিঝিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং তিনি আটক নন।
তিনি আরও জানান, অভিযোগকারী মামলা করবে না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সমঝোতা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে বাদী জানেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।
কসমিক ডেস্ক