সরকারের ভ্যাট অব্যাহতি নীতির আওতায় মোবাইল ফোন উৎপাদন খাতে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই সুবিধার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ও চার্জারের নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং Bangladesh University of Engineering and Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এই শর্ত যথাযথভাবে পালন করেনি।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের পর থেকে ৫০ শতাংশ ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের শর্তে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ করলেও বাস্তবে এসব পণ্য উৎপাদন না করে আমদানির ওপর নির্ভরশীল থেকেছে। সরেজমিন পরিদর্শনেও কোনো উৎপাদন কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে এবং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন বাজারজাত করে আসছে। ২০১৯ সাল থেকে তারা ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ভোগ করছে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও তা বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। এতে পুরো বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুরুল হক বিপ্লব অবশ্য দাবি করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। তার মতে, উৎপাদনের হিসাব মাসভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং প্রকৃত চিত্র যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভ্যাট অব্যাহতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কতটা কঠোরতা আরোপ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক