সচিবালয় থেকে হেঁটে ‘একুশে পদক’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সচিবালয় থেকে হেঁটে ‘একুশে পদক’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 26, 2026 ইং
সচিবালয় থেকে হেঁটে ‘একুশে পদক’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন: সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সচিবালয় থেকে বের হয়ে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত ‘একুশে পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জানা গেছে, সকাল ৯টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তিনি নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৫ নম্বর গেট দিয়ে বের হয়ে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের উদ্দেশে রওনা হন। তার এই পদযাত্রা ঘিরে সচিবালয় এলাকা ও আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এই সরল ও প্রতীকী উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখেছেন।

‘একুশে পদক’ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পদক প্রদান করা হয়। এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।

এ বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদক ও সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পদকপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রযাত্রায় সৃজনশীলতা, সততা ও দায়িত্ববোধই দেশের প্রকৃত শক্তি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাতি অনুপ্রাণিত হয়।

সচিবালয় থেকে পদযাত্রার বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলাদা আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সরল অংশগ্রহণের এই বার্তা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও ঘটনাটি দিনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ‘একুশে পদক’ প্রদান অনুষ্ঠান প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজন করা হয়, যা মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশের গৌরবোজ্জ্বল অবদানকারীদের সম্মানিত করার এ আয়োজন জাতীয় ঐক্য ও অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও জাতীয় অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে দিনের কর্মব্যস্ত সূচির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর পদযাত্রা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আবারও প্রমাণ করেছে যে জাতীয় স্বীকৃতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রূপগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেন এমপি দিপু ভূঁইয়া

রূপগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেন এমপি দিপু ভূঁইয়া