কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, স্বৈরতন্ত্র পতনের পরও রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষ খুন হতে পারে—এমন পরিস্থিতি তারা কল্পনাও করেননি। শেরপুরে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, “জুলাই-আগস্টে দুই হাজার মানুষ শহীদ হওয়ার পর, একটি ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটানোর পর আবারও রাজনীতি করতে গিয়ে কাউকে খুন হতে হবে—এমন কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।”
তিনি এই ঘটনার দায় শুধু বিএনপির ওপর নয়, সরকারের ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, সরকার ও প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলকে সব ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, শেরপুরের ঘটনাকে তিনি সেই পরিস্থিতিরই ফল বলে মনে করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, গত দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা বারবার সতর্ক করলেও বিএনপি সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেয়নি। “কানে নিলে আজ মাওলানা রেজাউল করিমকে এভাবে খুন হতে হতো না”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য ও পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষ খুন হওয়া ঠেকাতে তারেক রহমানের পরিকল্পনা কী—তা তিনি জানতে চান।
হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, “যদি বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত থেকে মানুষ বাঁচতেই না পারে, তাহলে সেই ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে মানুষ কী করবে?”
এনসিপি নেতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক