বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বহু ত্যাগ ও দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা আসন্ন নির্বাচন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না যায়, তবে দেশ আবার সংকটের পথে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ভুল সরকার নির্বাচিত হলে আমাদের আবার উল্টো দিকে হাঁটতে হবে।”
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীগঞ্জ বাজার ও নীমবাড়িতে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে শহরের মানবকল্যাণ পরিষদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ঠাকুরগাঁও ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং সহস্রাধিক মানুষ গুম হয়েছেন। সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টে প্রায় দুই হাজার ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। তাই এই ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় এলে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন থাকবে না। তাঁর ভাষায়, “হিন্দু-মুসলমান ভাগ করে কখনো উন্নতি করা যায় না। বিভেদ তৈরি করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তারা আসলে দেশের ক্ষতি করছে।”
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল আধুনিকায়ন, ইপিজেড স্থাপন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, একটি মেডিক্যাল কলেজ, বিমানবন্দর চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার আওয়ামী লীগ বা নৌকা প্রতীক নেই, নতুনভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সামনে এসেছে। তিনি বলেন, এই প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত দল ও তাদের অতীত অবস্থান সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব মেনে নেয়নি, তাদের হাতে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলটির আদর্শিক অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর দাবি, ধর্মের মূল শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, বিএনপি তাদের গ্রহণ করতে পারে না।
শেষে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের বলব না আমাকে ভোট দিতে। আপনার বিবেক যদি বলে, আমার পক্ষে দেওয়া ভোট সঠিক জায়গায় যাবে—তবেই দিন।”