রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক এক সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, নদীদূষণ রোধে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনায় দূষণের উৎস শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, নদীতে শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে প্রতিটি শিল্পকারখানায় এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত বিধিনিষেধ মানবে না বা ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনায় ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার নদীগুলো দূষণমুক্ত করা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং নগরবাসীর নিরাপদ জীবনযাপনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য নদীতেও সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, শিল্পবর্জ্য, অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ঢাকার নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে দূষণের শিকার। কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ইটিপি ব্যবহারে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত পরিবেশগত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে নদীর পানির মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
কসমিক ডেস্ক