দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও থামেনি যমুনার ভাঙন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও থামেনি যমুনার ভাঙন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 17, 2026 ইং
দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও থামেনি যমুনার ভাঙন ছবির ক্যাপশন:

বগুড়া অঞ্চলে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে গত ১৯ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ। এ অবস্থায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় ২২০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলার ওপর দিয়ে যমুনা নদী প্রায় ৪৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হলেও এর মধ্যে মাত্র ১৯ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২৬ কিলোমিটার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নদীভাঙন প্রতিরোধে ছয়টি স্পার, একটি গ্রোয়েন বাঁধ, দুটি হার্ডপয়েন্ট, ছয়টি ক্রসবার এবং একটি ফিশ পাস নির্মাণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শতভাগ কাজ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।

বর্তমানে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধুনটের শহরাবাড়ি, ভান্ডারবাড়ি, সারিয়াকান্দির কামালপুর এবং সোনাতলার পাকুল্ল্যা এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, দুই কিলোমিটার পুরোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোর পুনর্বাসন, শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের সংস্কার, সাড়ে তিন কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং পুরো ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি অনুমোদন হলে বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট এলাকায় যমুনার ভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বন্যা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী জনবসতি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা পাবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অতীতের মতো অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে হাজারো পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স