ডিজিটাল নকলকে প্রতিহত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিজিটাল নকলকে প্রতিহত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
ডিজিটাল নকলকে প্রতিহত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচলিত নকলের প্রবণতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সময়ে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ডিজিটাল নকল, যা মোকাবিলায় আধুনিক পদ্ধতি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকল’ শব্দটির কবর অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আর আলোচনা করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন। তবে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষায় অনিয়মের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, এখন নকল হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে, ফলে এটি প্রতিরোধেও নতুন কৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখতে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কেউ যাতে অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স বা স্নাতক কোর্স চালুর প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু অনার্স কোর্স চালু করতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজন ও মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের দিকে ঝুঁকে পড়া কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে শুধু উচ্চ শিক্ষা আর উচ্চ শিক্ষা। সবাই খালি অনার্স খুলতে চায়। এর কি দরকার?” তার মতে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মতবিনিময় সভায় পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে মূল্যায়িত উত্তরপত্র বা খাতা রেন্ডম ভিত্তিতে পুনরায় যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে দেখা হবে কোনো পরীক্ষক অস্বাভাবিকভাবে কম বা বেশি নম্বর দিয়েছেন কি না।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। যদি কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা রেন্ডম চেকিংয়ের এই উদ্যোগ পরীক্ষার ফলাফলের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি পরীক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে।

বর্তমান সময়ে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়মের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত এ সভায় কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরীক্ষা পরিচালনা, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্বাচনে প্রার্থী বা এজেন্টের টাকা-খাবার নিতে পারবে না পুলি

নির্বাচনে প্রার্থী বা এজেন্টের টাকা-খাবার নিতে পারবে না পুলি