ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা Lionel Messi ও Cristiano Ronaldo-র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গত দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্যবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই কিংবদন্তির দেখা হয়নি কখনো। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।
নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের কাঠামো আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ফলে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার একাধিক সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে আর্জেন্টিনা রয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা নকআউট পর্বে ওঠার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এমনকি শেষ ম্যাচে হেরে গেলেও বিভিন্ন সমীকরণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগাল খেলছে গ্রুপ ‘কে’-তে। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনো গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে তাদের পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করছে শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা
সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমীকরণগুলোর একটি হলো কোয়ার্টার ফাইনাল। যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয়েই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রাউন্ড অব ৩২ ও রাউন্ড অব ১৬-এর বাধা পেরিয়ে যায়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দ্বৈরথগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হতে পারে ১১ জুলাই, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে।
রাউন্ড অব ৩২-এ চমকপ্রদ সাক্ষাৎ
বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পর্তুগাল তৃতীয় স্থানে থেকেও সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠে, তাহলে রাউন্ড অব ৩২-এই মুখোমুখি হতে পারেন মেসি ও রোনালদো।
এটি হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত নকআউট ম্যাচে পরিণত হবে।
সেমিফাইনালের সমীকরণ
কিছু বিশেষ ব্র্যাকেট বিন্যাসে দুই দলের দেখা হতে পারে সেমিফাইনালেও। নকআউট পর্বের বিভিন্ন ফলাফল ও অবস্থান অনুযায়ী আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল ভিন্ন পথে এগিয়ে গিয়ে শেষ চারে একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই দর্শকরা উপভোগ করতে পারেন দুই কিংবদন্তির মহারণ।
স্বপ্নের ফাইনাল
ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য অবশ্যই বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসি বনাম রোনালদো। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পর্তুগাল গ্রুপ রানারআপ হিসেবে নকআউটে যায়, তাহলে তারা ভিন্ন ব্র্যাকেটে অবস্থান করবে।
সেক্ষেত্রে নকআউটের কোনো পর্যায়েই তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। দুই দল যদি ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে নিউ জার্সির MetLife Stadium-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ফাইনালগুলোর একটি।
মেসি ও রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সম্ভাব্য দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের নাম। এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং বিশ্ব ফুটবল কি সত্যিই উপহার পায় এই মহারণ।
কসমিক ডেস্ক