ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেকর্ড মাত্রার গরমের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দেশটির চলমান দাবদাহের মধ্যে এটিকে প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত তাপমাত্রার চাপের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফর্মারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে ব্রিটানি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে কুইম্পার শহরের নিকটবর্তী এরগ-গ্যাবেরিক এলাকায় এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে ফরাসি গ্রিড অপারেটর আরটিই (RTE) এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এনেডিস (Enedis)-এর বিশেষজ্ঞ দলগুলো সারারাত কাজ চালিয়ে যায়। তবে সমস্যার ব্যাপকতার কারণে দ্রুত পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে এক লাখ ছয় হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন। পরে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব বাকি এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ফ্রান্সজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে থাকায় দেশটির ৫৮টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ব্রিটানি অঞ্চল থেকে শুরু করে প্যারিস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে আটকে থাকছে। এর ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের চলমান এই তাপপ্রবাহও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।
ফ্রান্সের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত তাপের চাপ কীভাবে প্রভাব ফেলছে, বর্তমান পরিস্থিতি তার একটি বড় উদাহরণ। ফলে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, জনস্বাস্থ্য, পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপরও এই তাপপ্রবাহের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক