আর্জেন্টিনার তরুণ ফুটবল প্রতিভা Alejandro Garnacho বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব Chelsea FC-এ যোগ দেওয়ার পর তার প্রথম মৌসুম প্রত্যাশা অনুযায়ী যাচ্ছে না। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এখনো সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি এই তরুণ উইঙ্গার।
সম্প্রতি Manchester City-এর বিপক্ষে ম্যাচে হারের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন গারনাচো। ম্যাচ শেষে তিনি পুরোনো ক্লাব Manchester United-কে ঘিরে স্মৃতিচারণ করেন এবং তুলে ধরেন ক্লাব ছাড়ার পেছনের কারণগুলো।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘মার্কা’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যম Sky Sports-এর সঙ্গে আলাপকালে গারনাচো জানান, ইউনাইটেডে শেষ কয়েক মাস তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। নিয়মিত একাদশে জায়গা না পাওয়া এবং অধিকাংশ সময় সাইড বেঞ্চে কাটানো তার মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি বলেন, “শেষ ছয় মাস আমি নিয়মিত খেলতে পারিনি। একজন ফুটবলার হিসেবে সবসময় মাঠে থাকতে চাই। কিন্তু যখন সেটা সম্ভব হয় না, তখন নিজেকে নিয়ে ভাবতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
এই পরিস্থিতিই তাকে নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য করে। গারনাচোর মতে, ক্যারিয়ারের স্বার্থেই তিনি ক্লাব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চেলসিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “খারাপ সময় থেকে বের হয়ে আসতে কখনো কখনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি সেটাই করেছি এবং এখন চেলসির মতো একটি বড় ক্লাবের অংশ হতে পেরে গর্বিত।”
তবে ইউনাইটেড ছাড়ার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল কোচের সঙ্গে মতবিরোধ। গারনাচো স্বীকার করেন যে, পর্তুগিজ কোচ Rúben Amorim-এর সঙ্গে তার কিছু বিষয়ে দ্বিমত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। যদিও এই বিষয়টিকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখেন না।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ফুটবলে এসব বিষয় ঘটেই থাকে। আমি শুধু আমার ক্যারিয়ারের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছি।”
পুরোনো ক্লাবের সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই তরুণ তারকা। ইউনাইটেড সমর্থকদের ভালোবাসা তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি। গ্যালারিতে পাওয়া সমর্থন এবং ভালোবাসার স্মৃতি তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন গারনাচো। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি Argentina national football team-কে বেছে নেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে পরিবারের প্রভাব বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
গারনাচো বলেন, “আমার পরিবার শুরু থেকেই আমাকে বিশ্বাস জুগিয়েছে যে আর্জেন্টিনাতেই আমার ভবিষ্যৎ বেশি উজ্জ্বল। তারা আমাকে সবসময় সমর্থন দিয়েছে।”
এছাড়াও, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল বিশ্বসেরা ফুটবলার Lionel Messi-এর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ। তিনি বলেন, “মেসির সঙ্গে খেলার সুযোগ—এটা যে কোনো ফুটবলারের জন্য স্বপ্নের মতো। এমন সুযোগ কে হাতছাড়া করতে চায়!”
সব মিলিয়ে, চেলসিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে এখনো কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন গারনাচো। যদিও শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, তবুও তিনি আত্মবিশ্বাসী যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারবেন।
ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায়ে অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন—দুটোকেই সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই আর্জেন্টাইন তরুণ তারকা।