বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান OpenAI–এর সাবেক গবেষক Shyamal Anandkat চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকা ছেড়ে ভারতে ফিরে এসেছেন। তিনি মনে করেন, ভারতের দ্রুত প্রসারমান প্রযুক্তি খাত বর্তমানে এমন একটি সুযোগের মুখোমুখি, যা ‘এক প্রজন্মে একবারই আসে’ এবং যা বৈশ্বিক এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রায় চার বছর ধরে ওপেনএআইতে কাজ করেছেন আনন্দকাট। সেখানে তিনি অ্যাপ্লাইড ইভ্যালস টিমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই দলের মূল দায়িত্ব ছিল উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং বাস্তব ব্যবহারের উপযোগিতা মূল্যায়ন ও উন্নয়ন করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার ভারতে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সিলিকন ভ্যালির বাইরেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জেনারেটিভ এআই গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে কাজ করলেও ভারতের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সংযোগ সবসময়ই গভীর ছিল। কারণ, তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের মধ্যেই।
আনন্দকাট স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তি বিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে আসার সিদ্ধান্ত প্রথমে তার কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তবে ভারত ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রকৌশলী, গবেষক এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
তার মতে, এ অঞ্চলে বিশ্বমানের প্রযুক্তি তৈরি করার মতো প্রতিভা ও দক্ষতার কোনো ঘাটতি নেই। বরং বড় ও উচ্চাভিলাষী ধারণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাবই প্রধান চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কেবল নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক কেন্দ্র থেকেই তৈরি হতে পারে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতা সেই ধারণাকে বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
যদিও তিনি তার পরবর্তী পেশাগত উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি, তবে তার বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি নতুন কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যতের এআই এবং সম্ভাব্য সুপারইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি যেন সবার জন্য উপকারী, নিরাপদ এবং সহজলভ্য হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার নতুন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ সম্পর্কে শিগগিরই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
কসমিক ডেস্ক