বিদায়ের আগে চা-শ্রমিককে কারামুক্ত করলেন ডিসি সারওয়ার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিদায়ের আগে চা-শ্রমিককে কারামুক্ত করলেন ডিসি সারওয়ার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 22, 2026 ইং
বিদায়ের আগে চা-শ্রমিককে কারামুক্ত করলেন ডিসি সারওয়ার ছবির ক্যাপশন:

সিলেটে এক মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। বিদায়ের প্রাক্কালে তিনি চা-বাগানের এক শ্রমিকের দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে তাকে কারামুক্ত করেছেন। এই ঘটনাটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মঙ্গল দাস নামের ওই শ্রমিকের ২০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। বিল পরিশোধের পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পাঠানো হলে তিনি মুক্তি লাভ করেন।

জানা যায়, সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার কেওয়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক মঙ্গল দাস দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে তাকে কারাভোগ করতে হয়। বিষয়টি প্রথমে খুব একটা আলোচনায় না এলেও পরে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে।

কারাগার পরিদর্শনের সময় মঙ্গল দাসের দুর্দশার বিষয়টি জানতে পারেন ডিসি সারওয়ার আলম। তখন তিনি তাকে সহায়তার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১১ মার্চ বিদ্যুৎ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আনোয়ারুল কবির তাকে জামিন দেন। তবে বিল পরিশোধ না হওয়ায় সেই জামিন কার্যকর হতে দেরি হয়।

পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৭ জুন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। এতে করে তার মুক্তির বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক সরাসরি উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয় এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গল দাসকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা বলেন, জামিন সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বিল পরিশোধে দেরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং রিলিজ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এই মানবিক পদক্ষেপটি এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন ডিসি সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও তার প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়। বিশেষ করে দানের ডেগ সিলগালা এবং দানবাক্স ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষের মতে, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা এবং স্থানীয় প্রতিক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। যেখানে অনেক সময় সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে যায়, সেখানে এমন উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সুজনের মন্তব্য: বিসিবি সব খারাপ নয়, সব ভালোও নয়

সুজনের মন্তব্য: বিসিবি সব খারাপ নয়, সব ভালোও নয়