একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই সফরকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার পর।
উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামাবাদের উদ্যোগে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয় এবং সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তান সফর করেছিলেন, যেখানে দুই দেশ ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অগ্রগতি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান।
এই সফর তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক