‘তেল আছে শুধু সংসদে’—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘তেল আছে শুধু সংসদে’—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
‘তেল আছে শুধু সংসদে’—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ছবির ক্যাপশন:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বাস্তব জ্বালানি সংকটের বিপরীতে সংসদে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। তাঁর ভাষায়, “তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাস্তবে সাধারণ মানুষ জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। অথচ সংসদে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়, যা জনগণের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ফল আসছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা নবীন সদস্য হয়েও চেয়েছিলাম রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে—এটাই হওয়া উচিত নীতি।” তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য প্রত্যাশিত ফল আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঘিরেও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই “গোঁজামিল” দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব হিসাবের সঙ্গে কাগজে-কলমে তথ্যের অমিল রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য “মেরিটোক্রেটিক সোসাইটি” গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে মেধার ভিত্তিতে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সবকিছু নির্ধারণ করা উচিত।

এছাড়া কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষিবিদদের মতো পেশাজীবী সংগঠনেও নেতৃত্ব দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে, যা একটি “ব্যাড কালচার” হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে জ্বালানি সংকট চলমান থাকলে বোরো ধানসহ কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে কৃষি ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।a


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াল এনবিআর

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াল এনবিআর