দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ করতে নতুন একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করা।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রশাসনিক, বিচারিক এবং নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রতিটি শূন্য পদে সর্বোচ্চ দুইজন যোগ্য ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করবে। এরপর সেই তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য। এতে কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। এর মাধ্যমে কমিটির প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করে। এরপর নতুন করে কমিশনার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
দুদক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যার প্রধান দায়িত্ব দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন করা। তাই কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বাছাই কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার দুদকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, প্রশাসনিক প্রধান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার উপস্থিতি এই কমিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আগামী দিনে এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি দুদকের কমিশনার নিয়োগ দেবেন। ফলে দেশের দুর্নীতি দমন কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন বাছাই কমিটি গঠনের মাধ্যমে দুদকের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক