মালয়েশিয়ায় ৪ মাস ধরে বেতনহীন ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মালয়েশিয়ায় ৪ মাস ধরে বেতনহীন ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
মালয়েশিয়ায় ৪ মাস ধরে বেতনহীন ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক ছবির ক্যাপশন:

মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মজুরি না পাওয়ায় তারা খাবার, বাসাভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রবাসী এই শ্রমিকদের অভিযোগ, অ্যারোফোম কোম্পানি তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় তারা এখন মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগে শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া নিয়ে তারা নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন। শ্রমিকদের আশা ছিল, এই শুনানির মাধ্যমেই অন্তত একটি কার্যকর সমাধানের পথ খুলবে।

তবে শুনানির শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। অন্যদিকে শ্রমিকদের আইনজীবী বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানান। তার মতে, চার মাস ধরে বেতন না পাওয়া শ্রমিকদের জন্য আরও সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শেষ পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। অনেকেই মনে করছেন, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে তাদের আর্থিক সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার অর্থ নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতেও পারছেন না। ফলে শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক চাপও তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রবাসে কাজ করতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ায় তারা নিজেদের অসহায় মনে করছেন।

বাংলাদেশি এই শ্রমিকদের দাবি, তারা শ্রম দিয়ে উপার্জিত ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মতে, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে এসে তারা শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু এখন নিজেরাই না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক শ্রমিকের পরিবার বাংলাদেশে তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই পরিবারগুলিও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বিদেশে কর্মরত অনেক শ্রমিকই নানা সময় বেতন বকেয়া, চুক্তিভঙ্গ এবং হয়রানির শিকার হন। তবে ১০৭ জন শ্রমিকের একসঙ্গে চার মাসের বেতন আটকে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে শ্রমিকরা আশা করছেন, আগামী শুনানিতে অন্তত তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসবে। তারা চান, আর কোনো অজুহাত নয়, বরং দ্রুত ন্যায়বিচার। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিকের এই সংকট প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার আরেকটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। ন্যায্য মজুরি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত না হলে এমন মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইলন মাস্ক কি সত্যিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার?

ইলন মাস্ক কি সত্যিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার?