রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছে, জোটটি ধীরে ধীরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, বর্তমান পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ন্যাটো আগামী বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের জন্য ন্যাটোর সম্ভাব্য সামরিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বব্যাপী মোট সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ। এত বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের পরও রাশিয়াকে কেন হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জাখারোভা আরও দাবি করেন, গত বছরে ন্যাটোর অধীনে ১২০টির বেশি সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সদস্য দেশগুলো আলাদাভাবে ৭০০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব মহড়ায় অংশীদার দেশগুলোর অংশগ্রহণও ক্রমেই বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, এসব সামরিক অনুশীলনে শুধু প্রতিরক্ষামূলক কৌশল নয়, আক্রমণাত্মক পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ন্যাটোর ‘আগ্রাসী মনোভাবের’ ইঙ্গিত দেয়।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ন্যাটোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আবারও রাশিয়াকে ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া ন্যাটোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘন, নাশকতা এবং সাইবার হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোরও কড়া সমালোচনা করেন জাখারোভা। তার দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক