লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-2 আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এ সময় তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভাজনের সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তদন্তে যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। এ কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে অযথা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
খায়ের ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। তাই যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় নজরদারি রাখার অনুরোধ জানান।
ঘटनাস্থল পরিদর্শনের সময় রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া, রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু এবং রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রায়পুরে সংঘটিত এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো তথ্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক