ঝুঁকির মধ্যেও কেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝুঁকির মধ্যেও কেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 20, 2026 ইং
ঝুঁকির মধ্যেও কেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু? ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই লেবাননে নতুন করে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সংস্থা।

এই সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah এবং ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলায় একাধিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

লেবাননের Lebanon সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেক এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা Israel এর সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ৫০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করে। এই হামলার প্রতিক্রিয়াতেই পাল্টা আঘাত চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এবং তার নীতির কারণে দেশকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক ও দলীয় স্বার্থে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যার ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ ও সেনারা।

ইয়ালন আরও বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরেই লেবাননের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় সংঘাত আরও গভীর হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নিজেদের জোট টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধকে ব্যবহার করছে, যা ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পর্যায় থেকেও মন্তব্য এসেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই সংঘাতের মূল সমস্যা লেবানন নয়, বরং হিজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম। তাদের মতে, হিজবুল্লাহ যদি আক্রমণ বন্ধ করে এবং চুক্তি মেনে চলে, তাহলে উভয় পক্ষেই শান্তি ফিরে আসতে পারে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। যুদ্ধবিরতির পরও একের পর এক হামলা, পাল্টা হামলা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা চরমে রয়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অস্থির।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মতলব উত্তরের জেলেরা বলছেন, “শুধু চাউলে কি আর চলে?”

মতলব উত্তরের জেলেরা বলছেন, “শুধু চাউলে কি আর চলে?”