নড়াইল সদর উপজেলার কমলাপুর ও গন্ধব্যখালী এলাকায় স্থাপিত কোটি টাকা ব্যয়ের দুইটি সেচপাম্প দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে স্থাপিত এই সেচব্যবস্থা একসময় এলাকার কৃষকদের জন্য কম খরচে পানির প্রধান উৎস ছিল। প্রায় এক হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
প্রকল্পের আওতায় কমলাপুরে সাড়ে আট কিলোমিটার এবং গন্ধব্যখালী এলাকায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচখাল খনন করা হয়, যার মাধ্যমে চিত্রা নদীর পানি সরাসরি কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হতো। এতে কৃষকরা সহজেই বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ পেতেন। তবে ২০১৮ সালে সেচপাম্প দুটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর থেকে পুরো ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পাম্প মেরামতের জন্য বড় অঙ্কের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে সেচপাম্প এলাকার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থাপনাগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে এবং পুরো এলাকাজুড়ে অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট।
স্থানীয় একজন কর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাম্প বন্ধ থাকায় কোনো কর্মকর্তা সেখানে নিয়মিত যান না। ফলে জায়গাটি অনেক সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে সেচপাম্পের মাধ্যমে স্বল্প খরচে জমিতে পানি দেওয়া যেত, এখন সেখানে ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। কৃষকরা জানান, বর্তমানে এক কানি জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা আগে অনেক কম ছিল।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সেচপাম্প চালু থাকলে ধান, পাট, গমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সহজ হতো এবং খরচও কম থাকত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পাম্প বন্ধ থাকায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লাভও কমে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা গেলে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা সৃষ্টি হবে। সেচপাম্প দুটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে আবারও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সেচব্যবস্থাটি পুনরুজ্জীবিত করা হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন আবারও গতি পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কসমিক ডেস্ক