বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে চীনে কিছু পণ্য রপ্তানি হলেও চীন থেকে আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে নতুন নতুন রপ্তানি খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের দাইওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে কীভাবে চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশ করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চীনে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। এই সুবিধাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, ফলমূল, সবজি, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষিভিত্তিক পণ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, শুধু কৃষিপণ্য নয়, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, হাইটেক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে চীনের বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব খাতের পণ্য চীনে রপ্তানির সুযোগও বাড়ানো যেতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, প্রকল্প নকশা এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এছাড়া যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই (জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি চীনের কয়েকটি ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চীন।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সহযোগিতা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি স্কলারশিপ এবং সহজ ভিসা সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ কাজ করছে। এতে দুই দেশই পারস্পরিকভাবে লাভবান হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কসমিক ডেস্ক