ইরানের শেষ মুহূর্তের ‘গোল’ কেন বাতিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের শেষ মুহূর্তের ‘গোল’ কেন বাতিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
ইরানের শেষ মুহূর্তের ‘গোল’ কেন বাতিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ছবির ক্যাপশন:

মিশরের বিপক্ষে স্টপেজ টাইমে করা ইরানের শেষ মুহূর্তের গোলটি বাতিল হওয়ায় ফুটবল দুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সিয়াটল স্টেডিয়ামে ইরানের ডিফেন্ডার শোজা খালিলজাদে যে মুহূর্তে বল জালে পাঠান, তখন মনে হয়েছিল ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইরান। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। আর এতেই হতাশায় ডুবে যান ইরানের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

প্রথম দেখায় সিদ্ধান্তটি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কারণ খালিলজাদে মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের পেছনে ছিলেন না বলেই মনে হচ্ছিল। ফলে মাঠে থাকা দর্শক থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারীও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু ভিএআর যে লাইন টেনেছে, তা ইব্রাহিমের সঙ্গে নয়; বরং মিশরের হামজা আবদেলকারিমের সঙ্গে। আর সেখানেই লুকিয়ে ছিল অফসাইডের আসল ব্যাখ্যা।

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা আইএফএবি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় তখনই অফসাইড অবস্থায় থাকেন, যখন তার মাথা, শরীর বা পা বলের চেয়ে এবং প্রতিপক্ষের ‘দ্বিতীয় সর্বশেষ’ খেলোয়াড়ের চেয়ে গোললাইনের কাছে থাকে। সাধারণত এই হিসাবের ক্ষেত্রে গোলরক্ষকই শেষ রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে দ্বিতীয় সর্বশেষ খেলোয়াড় হন কোনো ডিফেন্ডার। কিন্তু এই ম্যাচে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।

মিশরের গোলরক্ষক শোবেইর আগের একটি শট বাঁচাতে গিয়ে গোললাইন ছেড়ে সামনে বেরিয়ে এসেছিলেন। ফলে তিনি আর শেষ রক্ষক ছিলেন না। তখন সবচেয়ে পেছনে ছিলেন ইয়াসির ইব্রাহিম, আর দ্বিতীয় সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয় হামজা আবদেলকারিমকে। ভিএআর বিশ্লেষণে দেখা যায়, খালিলজাদে ঠিক আবদেলকারিমের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন। তাই আইন অনুযায়ী গোলটি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

এই বিরল পরিস্থিতিই মূলত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক দর্শক ও সমর্থক প্রথমে ভেবেছিলেন, রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের অফসাইড আইনের এই সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা না জানার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন গোলরক্ষক নিজের অবস্থান ছেড়ে সামনে চলে আসেন, তখন অফসাইড নির্ধারণের নিয়মও বদলে যায়। এই ম্যাচে ঠিক সেটাই ঘটেছে।

গোল বাতিলের পর সিয়াটল স্টেডিয়ামে ইরানের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমর্থকেরাও মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান। যে গোলটি ইরানকে নকআউট পর্বে তুলে দিতে পারত, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরপর থেকেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কেউ ভিএআরকে সঠিক বলছেন, কেউ আবার বলছেন এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলের আবেগকে নষ্ট করে।

ঘটনার পর ইরানের ডিফেন্ডার শোজা খালিলজাদে সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও জানা গেছে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা থামছে না। একদিকে প্রযুক্তির নির্ভুলতা, অন্যদিকে ফুটবলের আবেগ—এই দুইয়ের সংঘাতে আবারও সামনে এসেছে ভিএআর-নির্ভর আধুনিক ফুটবলের জটিলতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যতই কঠিন মনে হোক না কেন, আইনগতভাবে তা সঠিক। কারণ অফসাইড নির্ধারণে গোলরক্ষকের অবস্থান নয়, বরং দ্বিতীয় সর্বশেষ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের অবস্থানই মূল বিবেচ্য। আর সেই অল্প সেন্টিমিটারের ব্যবধানেই ভেঙে যায় ইরানের ঐতিহাসিক স্বপ্ন।

সব মিলিয়ে, মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল শুধু একটি ম্যাচের ঘটনা নয়, বরং ফুটবলের অফসাইড আইনের এক বিরল ও আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনো তোলপাড় চলছে—সিদ্ধান্তটি কি সত্যিই কঠোর ছিল, নাকি ছিল নিখুঁত আইনি প্রয়োগ?


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মৌলভীবাজারে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী