২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে। স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজয়ের পর দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দেকে ম্যাচের মাঝপথে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার।
ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে, উরুগুয়ে যখন ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ভালভার্দেকে বদলি করেন। মাঠ ছাড়ার পর বেঞ্চে বসে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে দেখা যায় তাকে। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ধারণা করেন, কোচের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে ভালভার্দে সেই জল্পনা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, বদলি হওয়ার কারণে নয়, বরং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশাই তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
ভালভার্দে বলেন, তিনি স্বাভাবিকভাবেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থেকে দলকে সাহায্য করতে চান। বিশেষ করে দল যখন পিছিয়ে থাকে, তখন কোনো খেলোয়াড়ই সহজে মাঠ ছাড়তে চায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোচের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন এবং সেটিই দলের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য।
তার ভাষায়, একজন ফুটবলারের ইচ্ছা সবসময় ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া। কিন্তু মাঠের কৌশল নির্ধারণ করেন কোচ, আর সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, কোচ মার্সেলো বিয়েলসাও বদলির সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ম্যাচে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যেই আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। সামনে অতিরিক্ত খেলোয়াড় এনে স্পেনের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভালভার্দেকে তুলে নেওয়া হয়।
তবে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় উরুগুয়ে। ফলে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় দলটিকে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় উরুগুয়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, দল নির্বাচন এবং কোচের কৌশল নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে দল পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সমর্থকদের।
কসমিক ডেস্ক