স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন আর্থিক ক্ষমতা আদেশ কার্যকর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন আর্থিক ক্ষমতা আদেশ কার্যকর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 21, 2026 ইং
স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন আর্থিক ক্ষমতা আদেশ কার্যকর ছবির ক্যাপশন:
ad728

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে নতুন আর্থিক ক্ষমতা আদেশ জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এ আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, সরকারি পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্তকরণ, তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ী পদ সংরক্ষণ, পদের বেতনক্রম, মর্যাদা ও পদবি পরিবর্তন এবং পদ স্থায়ীকরণ–সংক্রান্ত সব প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন সংযুক্ত অধিদপ্তর, অফিস ও সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামোয় যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন এবং যানবাহন ক্রয় ও প্রতিস্থাপনের বিষয়েও কেন্দ্রীয় অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারী সংক্রান্ত বিষয়, আউটসোর্সিং নীতিমালার আওতায় সেবা ক্রয় এবং দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তাবও অর্থ বিভাগের অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে।

বাজেট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়, অনুমোদিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ছাড়া ব্যয় এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত বা দায়বিহীন যেকোনো পুনঃউপযোজনের জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব ব্যয় থেকে মূলধন ব্যয়ে বা মূলধন ব্যয় থেকে রাজস্ব ব্যয়ে পুনঃউপযোজন এবং বিএসিএস অনুযায়ী বেতন ও ভাতা খাত থেকে অন্য অর্থনৈতিক শ্রেণিতে পুনঃউপযোজনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাইরে যেকোনো আর্থিক অঙ্গীকার এবং প্রাক-স্বাধীনতাকালের আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সম্মানী, বেতন ও চাকরির শর্ত সংক্রান্ত বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কঠোর শ্রমসাধ্য বা কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য ১৫ হাজার টাকার বেশি সম্মানী অথবা একই অর্থবছরে একাধিকবার সম্মানী দিতে হলে অর্থ বিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন হবে। বেতন ও ভাতা, ভ্রমণ ও বদলি ব্যয়, ভবিষ্য তহবিল, পেনশন ও আনুতোষিক সংক্রান্ত বিধি ব্যাখ্যা এবং চাকরির শর্ত পরিবর্তনের বিষয়গুলোও কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে।

রাজস্ব ও কর সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। নন-এনবিআর কর, ফি, সেস আরোপ বা সরকারি আয়ে প্রভাব ফেলে—এমন যেকোনো প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। বাজেট বহির্ভূত অনুদান এবং আগাম বর্ধিত বেতন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একই বিধান কার্যকর হবে।

অগ্রিম উত্তোলন, ক্রয় ও আপ্যায়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থায়ী অগ্রিম ছাড়া ১৫ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম উত্তোলন, পাঁচ লাখ টাকার বেশি স্থানীয় ক্রয় এবং নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আপ্যায়ন ব্যয়ের জন্য অনুমোদন নিতে হবে।

বিদেশ সফর ব্যয়, অনাদেয় ক্ষতি অবলোপন, সরকারি ঋণ মওকুফ, নীতিনির্ধারণ, ঋণ সংগ্রহ ও সরকারি গ্যারান্টি প্রদানসহ আরও বিভিন্ন আর্থিক সংশ্লেষযুক্ত বিষয় এই ২৬ খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, নতুন এই আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নীতি পর্যায়ে প্রথম বক্তব্যে ঐক্যের বার্তা জাইমা রহমানের

নীতি পর্যায়ে প্রথম বক্তব্যে ঐক্যের বার্তা জাইমা রহমানের