বিশ্বকাপ ২০২৬ কে সামনে রেখে ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। এই ম্যাচগুলোতে দলগুলো নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে, খেলোয়াড়দের মান যাচাই করতে এবং স্কোয়াডে সেরা কম্বিনেশন তৈরি করতে মাঠে নামছে।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ রাত ২টায় ভিলারিয়ালে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এর পর ৩১ মার্চ মিশরের বিপক্ষে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, এই ম্যাচগুলো দলের কাঠামো ঠিক করতে এবং বিশ্বকাপের জন্য সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে, যা অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে। কোচিং স্টাফ এখন থেকেই খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং দলগত কৌশল ঠিক করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে মূল দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয় করাও প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা আগামীকাল ভোর ৫.১৫টায় ঘরের মাঠে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এরপর তারা জাম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে। স্কালোনি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি এই ম্যাচগুলোতে খেলবেন।
স্কালোনি জানিয়েছেন, দলের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে। তাই এখন থেকেই সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন খেলোয়াড়রা দলের স্ট্র্যাটেজিতে যোগ দিতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে।’
আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচটি ঐতিহ্যবাহী লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যা দলের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয় সমর্থক এবং ফুটবল পণ্ডিতরা মনে করছেন, লা বোম্বোনেরার উত্সাহপূর্ণ পরিবেশ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফর্ম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতি ম্যাচই বিশ্বকাপের আগে দুই দলের জন্য নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। স্পেন সার্বিয়া এবং মিশরের বিপক্ষে খেলায় তাদের ডিফেন্স ও আক্রমণ পরীক্ষা করবে, যেখানে আর্জেন্টিনা মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন এবং লিওনেল মেসির ফর্ম যাচাই করবে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিও নিশ্চিত করে। এখন দেখার বিষয়, প্রীতি ম্যাচের এই প্রস্তুতি লড়াইয়ে কে কতটা এগিয়ে থাকতে পারে এবং বিশ্বকাপের মাঠে কে কতটা শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে সক্ষম হবে।
কসমিক ডেস্ক